ফেসবুকে ফলো করুন

জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক আমাদের বুকের তাজা রক্তে

মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন

গতকাল প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী গেলো। এই প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীকে কেন্দ্র করে ছিলো না তেমন আয়োজন। সত্যি বলতে আমাদের সামর্থ্য নাই তেমন আয়োজন করার। এক বড় ভাই একটা কেক উপহার দিয়েছিলেন। সেটা তিনি স্বেচ্ছায় দিতে চেয়েছিলেন।

আর একটা জাতীয় পতাকা,সংগঠনের পতাকা ও একটা ব্যানার। যা না করলেই না। এই টাকাটাও আমাদের কেন্দ্রীয় ৩ জন নেতার পকেট থেকে নেওয়া।

সারাদেশে লোকবল আমাদের একদম কম, তা কিন্তু নয়। জোরালো চেষ্টা করলে আমরাও বড় শোডাউন দেওয়ার সক্ষমতা রাখি। কিন্তু টাকা খরচ করে শো-ডাউনের মানসিকতা আমাদের নেই। আমরা চাই, জনগণ স্বেচ্ছায় নেমে আসুক আমাদের সাথে। সেই নেমে আসার অপেক্ষায় আমরা। নিজের অসুবিধা যতক্ষণ না মানুষ বুঝবে, ততোক্ষণ পরিবর্তন অসম্ভব। জোর করে কারও দিয়ে বিপ্লব সাধিত হয় না।

ছোট্ট জীবনে আমাদের অভিজ্ঞতার পাল্লা একদম কম নয়। রাজপথ যখন মরুভূমি। তখন ২০-২২ টা তরুণ স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলাম নতুন এক বাংলাদেশের।তখন আমাদের মনে হয়েছিলো, নিয়োগে স্বচ্ছতা ও কোটা বৈষম্য মুক্ত করতে পারলে বাংলাদেশের অনেকটা পরিবর্তন করা সম্ভব। সেই স্বপ্ন থেকে দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসে ক্লাসে ক্যাম্পেইন করা, বিসিএস কোচিং সেন্টারে সেন্টারে গিয়ে লেকচার মারা, বাসে বাসে পোস্টার বিতরণ, দেয়ালে দেয়ালে চিকা মারা সবই করেছি। হ্যা, এই কাজগুলো করার জন্য হাজার হাজার মানুষ আমাদের সাথে ছিলো না। আমরা ২০-২২ জন তরুণ মিলেই এগুলে করেছি।

আমাদের এই কাজ দেখে অনেকে হাসাহাসি করতো। বিশেষ করে সুবিধাভোগীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাইয়েরা বলতো, তোমরা এগুলো কি করতেছো? সরকারের এই আমলে কেউ মাঠে নামার সাহস করে না। আর তোমরা এসব করতেছো, জানের মায়া করে না? আমরা কোন উত্তর না দিয়ে মুচকি হেসে বলতাম, দোয়া কইরেন ভাই।

যাইহোক, একটা সময় আমাদের ক্যাম্পেইন সফল হয়। হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রত্যাশীরা রাস্তায় নেমে আসে। আন্দোলন সফল হয়।

সেই আন্দোলনের উদ্যোম দেখেছি। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। রাজপথের রাজা তখন শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রত্যাশী যুবকরা। কি টিয়ারগ্যাস, কি রাবার বুলেট, কি লাঠির ঝনাঝনি। কিচ্ছু বোঝেনা তারা। আগুন জ্বালায় লাঠিতে, আর মিছিল করে শার্ট খুলে কোমড়ে বেঁধে। তাদের দাপটে রাজপথ প্রকম্পিত। দৌড়ানি খেয়ে পালিয়েছে, দিতে এসেছে যে আন্দোলনে বাধা।

জনগণের বিপ্লব বলে কয়ে আসেনা। তবে, সংগঠকদের লেগে থাকতে হয়। আমরা লেগে আছি। সম্পূর্ণ নৈতিক শক্তি নিয়ে। ক্ষমতায় গিয়ে প্রতিহিংসাপরায়ণ হবো, এখন যারা আমাদের পেটাচ্ছে, তাদের পেটাবো, এই মানুষিকতা আমাদের নেই। আমরা সুন্দর বাংলাদেশ চাই। যে বাংলাদেশে সবার সমান সুযোগ ও নিরাপত্তা থাকবে। সহজ কথায় বলতে গেলে ইউরোপ আমেরিকায় যেভাবে বাংলাদেশের মানুষ আশ্রয় নিয়ে নিজেকে নিরাপদ মনে করে, ঠিক তেমন।

বাংলাদেশের রাজনীতি যে পরিমাণ নোংরা। আমরা জানি সফল হওয়া অনেক কঠিন। কিন্তু আমরা শুরুটা করতে চাই। যেমনটা করেছিলেন শহীদ তিতুমীর।

ব্রিটিশ সৈন্যরা যখন চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলে তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা। তিতুমীর তখন তাঁর অনুসারীদের অভয় দিয়ে বলেন, 'মৃত্যুকে ভয় পলে চলবে না। এই লড়াই আমাদের শেষ লড়াই নয়। আমাদের কাছ থেকে প্রেরণা পেয়েই এ দেশের মানুষ দেশ উদ্ধার করবে। এই লড়াইয়ের পথ ধরেই একদিন দেশ স্বাধীন হবে।'

আমরা শহীদ তিতুমীরের উত্তরসূরী। ইনশাআল্লাহ, হাজার হাজার লোকের গাড়ির বহর নিয়ে জনগণের তাক লাগিয়ে দিতে না পারলেও, ভিআইপি গেস্টদের ডেকে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীকে আপ্যায়ন করাতে না পারলেও, আলোকসজ্জা দিয়ে পার্টি অফিস সাজাতে না পারলেও পরিচ্ছন্ন রাজনীতির যে অগ্রযাত্রা আমরা শুরু করেছি। ইনশাআল্লাহ, তা একদিন সফল হবেই।

আমাদের ক্ষুধার্ত পেট আর তৃষ্ণার্ত গলার রাজপথের স্লোগান বয়ে আনুক শান্তির বাণী। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক আমাদের বুকের তাজা রক্তে। তবুও আর কোন মায়ের বুক যেন খালি না হয়।


মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন

ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক,
বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ

0 Comment "জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক আমাদের বুকের তাজা রক্তে"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Article Top Ads

Ad Middle Article 1

Ad Middle Article 2

Ads Under Articles